Logo

২১ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বেতন আত্মসাত করেছেন প্রধান শিক্ষক

সেলিম রেজা । সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
২১ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বেতন আত্মসাত করেছেন প্রধান শিক্ষক

স্কুল প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শিক্ষাখাতে সরকারের ভর্তুকি (উপবৃত্তি) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ২১ বছর ধরে বেতন ভাতা গ্রহণ করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন রায়গঞ্জের নলকা মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম হায়দার আলী।

(০৯ জুন ২০২১ইং) তারিখে সিরাজগঞ্জ থেকে বহুল প্রচারিত দৈনিক যুগের কথা পত্রিকায় ‘উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন গ্রহণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এলাকার সচেতন মহল স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এবং এলাকায় টক অব দ্যা নলকায় পরিণত হয়েছে। সেই সাথে এলাকার সচেতন মহল প্রধান শিক্ষক এসএস হায়দার আলীর দূর্নীতির তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নে নলকা মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ২ বছর পর ২০০০ সাল থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫০জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্ত হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী ২০০০ সাল থেকেই উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন গ্রহণ করে আত্মসাত করতে থাকেন। এমনি করে ২০০০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরেই উপবৃত্তি প্রাপ্ত ২’শ শিক্ষার্থীর নিকট থেকে বেতন গ্রহণ করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে আসছেন।

সরেজমিনে (০৬ জুন ২০২১ইং তারিখে নলকা মডেল হাই স্কুলে দেখা যায়, ৯ম শ্রেণিতে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা ১১জন উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন গ্রহণ করা হয়েছে।

৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী কারিশমা এর অভিভাবক বলেন, আমি গরীব মানুষ, আমার মেয়ে উপবৃত্তি গ্রহণ করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম হায়দার আলীর নির্দেশে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বেতন গ্রহণ করেছেন। করোনা দূর্যোগকালেও ৯ম শ্রেণির রেজিষ্ট্রেশন করতে বেতন বাবদ ২’শ ৪০ টাকা, স্কুল বন্ধ তবুও বিদ্যুৎ বিল ৬০ টাকা ও অতিরিক্ত অর্থ ৪’শ টাকা হিসেবে মোট ১৫’শ টাকা আদায় করে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক এসএম হায়দার আলী বলেন, নলকা মডেল হাই স্কুল ২০০০ সাল থেকেই উপবৃত্তি প্রাপ্ত হয়েছে। ২০০০ সালে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০জন। প্রতি বছরেই উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২’শ জনের অধিক। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন গ্রহণ করেছেন। কিন্তু গ্রহণকৃত বেতনের টাকা আত্মসাতের কথা অস্বীকার করেন।

এবিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল্লাহ বলেন, সরকারের ভ’তুর্কি ‘উপবৃত্তি’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে কোন প্রকার বেতন গ্রহণ করা যাবে না। তবে সেশন চার্জ গ্রহণ করা যাবে। এবিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com