Logo

হলুদ তরমুজ ও সাম্মাম চাষে স্বাবলম্বী সাটুরিয়ার সাইদুর রহমান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
হলুদ তরমুজ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় হলুদ তরমুজ ও সাম্মাম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান। উপজেলা সদর ইউনিয়নের গওলা এলাকার মো. কাদের ডাক্তারের ছেলে সাইদুর রহমান প্রথমে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ ও সাম্মাম ফল চাষ পদ্ধতি দেখে এসব ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হন।

এরপর তিনি সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে প্রথমে তিনি ৪৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। শুরুতেই তিনি কৃষিতে সফলতা এনেছেন। বর্তমানে ফলে ফলে ভরে গেছে তার মাচা। মাচায় দুলছে হলুদ, সোনালি ও সবুজ রংয়ের শত শত তরমুজ। সেই সাথে দুলচে শত শত সাম্মাম ফল, যা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। এসব ফল দেখে মনের তৃপ্তি মেটাচ্ছেন অনেকে। কেউবা আবার শখের বশে ক্ষেতেই কিনে খাচ্ছে হলুদ তরমুজ। আবার কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন এই সুন্দর তরমুজ। অনেকে আবার তরমুজ ক্ষেতের ভেতরে প্রবেশ করে তরমুজ ও সাম্মামে হাতে নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত।

একদিকে এই তরমুজ দেখতে যেমন আর্কষণীয়, অন্যদিকে খেতে অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু। তাই বর্তমান বাজারে অন্যান্য জাতের তরমুজের বাজারদরের তুলনায় এই তরমুজ বাজারে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে প্রতিটি হলুদ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে। তরমুজের পাশাপাশি সাম্মাম ক্রেতাদের মাঝে সৃষ্টি করছে আলোড়ন। সাম্মাম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে।

সরেজমিন সাইদুর রহমানের তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মাটি থেকে ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু লম্বা মাচা (বেড) তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে শক্ত করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। চার হাত অন্তর একটি বেড। এভাবে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমিতে তৈরি করা হয়েছে ৩০টি বেড। এর উপরে ছাউনির মতো ঘুরিয়ে মাচা দেয়া হয়েছে। সে মাচায় ঝুলে রয়েছে শত শত বাদামি ও সবুজ রংয়ের বেবি তরমুজ ও সাম্মাম। এসব তরমুজ বেশ রসালো ও সুমিষ্ট।

তরমুজ চাষি সাইদুর রহমান বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আত্মস্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করি। এরপর বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে হলুদ তরমুজ ও সাম্মাম চাষের পদ্ধতি দেখে আমার আগ্রহ বাড়ে। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে আমি পরীক্ষামূলকভাবে ৪৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ ও সাম্মাম চাষ শুরু করি। আমি আমার চাষবাদে সফলতা পেয়েছি। জমিতে প্রচুর পরিমাণে হলুদ তরমুজ ও সাম্মাম ফল ধরেছে।

তিনি আরো বলেন, এসব জাতের তরমুজ ও সাম্মাম সারাবছর ধরেই আবাদ করা যায়, যা সকলের কাছেই খুব প্রিয়। প্রতিটি তরমুজ ২ থেকে ৪ কেজি ওজনের হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, তরমুজ চাষে খরচ কম লাভ বেশি তাই আমি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করছি আমার সকল খরচ বাদ দিয়ে অনেক লাভবান হতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com