Logo

সিরাজগঞ্জের তরুণদের মাঝে ভিডিও গেমের আসক্তি প্রবল

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
তরুণদের মাঝে ভিডিও গেমের আসক্তি প্রবল

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি-

সিরাজগঞ্জ একটি শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত করতে সবচেয়ে বড় অবদান পরিবারের। কারণ শিশুরা অনুকরণ প্রিয় ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের কাছে থেকে চালচলন, কথাবার্তা, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা আয়ত্ত্ব করতে থাকে, একজন অভিভাবকের জন্য শিশুর বাড়ন্ত বয়সের প্রতিটা ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের প্রতি যত্ন/খেয়াল ও দায়িত্ব পালন মানসিক বিকাশের নিয়ামক।

শৈশবে খেলাধূলা ও সুস্থ বিনোদনের সাথে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা সন্তানের সাথে দূরত্ব তৈরি করছে। হাতে তুলে দিচ্ছি স্মার্টফোন নামক যন্ত্র। যা ডেকে আনছে ভয়াবহতা।

একটা সময় নেহাত বিনোদন ও সময় কাটানোর জন্য নোকিয়া মোবাইলে স্নেক গেম ছিল। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সময়ে প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে সহজলভ্য। যার ফলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম একটা স্ক্রীনে নিজেকে আবদ্ধ রাখছে। ভিডিও গেম নিয়ে অনেকেই হয়ে পড়ছে খুব বেশি সিরিয়াস, ভুলে যাচ্ছে বাস্তব জগৎ। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত অনলাইন গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ এবং পাবজি।

করোনা মহামারিতে স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনলাইন গেম খেলা আশঙ্কার পর্যায়ে চলে গিয়েছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছে অনলাইন গেমে। উপজেলার তামাই গ্রামের নবম/দশম শ্রেণির ছাত্র জনি, তামিম, সোহেলকে ফ্রি ফায়ার গেম খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলে, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধের ফলে প্রথমে বন্ধুরা মিলে সময় কাটানোর জন্য খেলা শুরু করি। আস্তে আস্তে ভালো লাগা শুরু। এখন নিয়মিত খেলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, স্কুল/কলেজ বন্ধ থাকার জন্য সারাদিন ছেলেরা মোবাইল নিয়ে থাকে। কিসব গেম খেলে! পড়ার কথা বললে বা অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কথা বললে, কথা শোনে না উল্টো খিটখিটে মেজাজ দেখায়। এমন বাস্তবতার সমাধান কি?

‘ফ্রি ফায়ার’ এবং পাবজির মত হিংস্র গেম রীতিমত আসক্তি পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে, গেম খেলতে না দেয়ায় আত্মহত্যা এমনকি নিজের বাবাকে হত্যা করার মত গা শিউরে ওঠা ঘটনা গণমাধ্যম সুত্রে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে এখন প্রতি মাসে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন মানুষ এ গেম খেলে। আর প্রতিদিন খেলে প্রায় ৯০ মিলিয়ন মানুষ। গরিবের দেশ বাংলাদেশেও প্রতিদিন এ গেম খেলছেন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ! এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে যার অধিকাংশই অল্পবয়সী তরুণরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার গেম নির্মাতা কোম্পানি ‘ব্লুহোল’ ২০১৭ সালে সর্বপ্রথম পাবজি গেমটি বাজারে আনে। প্রথমে যদিও কম্পিউটার এবং ‘এক্স বক্স’র জন্য বাজারে আনা হয় এই গেমটি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বাজারে আনা হয় পাবজি মোবাইল। অপরদিকে ভিয়েতনাম ‘১১১ ডট স্টুডিও’ থেকে প্রকাশিত করে ২০১৭ সালে গেরিনা ফ্রি ফায়ার গেমটি বাজারে নিয়ে আসে।

এ ধরনের আসক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গেমে আসক্তির কারণে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে অনলাইন গেম একজন তরুণ কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে সাথে ঘুমেরও ঘাটতিতে পড়ে এই গেম খেলা মানুষরা। শুধু তাই নয়, এই বিশ্বায়নের যূগে কিশোর কিংবা তরুণদের যূগের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে তাদের শিক্ষার মান উন্নয়ন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দূঃখের বিষয় এসব অনলাইন গেম এর প্রতি আসক্তির কারণে তারা শিক্ষার অগ্রগতি থেকে অনেকটাই পিছিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মেধা বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, যারা অনলাইন বা ভিডিও গেম খেলে তার দুই থেকে তিন শতাংশ গেমিং ডিজঅর্ডারে’ ভোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভিডিও গেমের প্রতি আসক্তিকে মানসিক রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। গেমিং ডিজঅর্ডারের সাথে অতি উদ্বিগ্নতা, বিষণ্নতা এবং তীব্র মানসিক চাপের মতো মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া অথবা সাইবার জগতের অপরাধে জড়িয়ে পড়তেও পাড়ে তাতেও সন্দেহের অবকাশ নেই।

বিষয়টিকে নজরে নিয়ে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ বিশেষ ক্লিনিক স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মনিটরিং শুরু করলেও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। এসব আসক্তিকর অনলাইম গেম এর ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক দিকগুলো খুব সহজেই আমাদের দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয়। যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও হুমকিস্বরূপ

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com