Logo

যে শহরে পাঁচ হাজার বছরে ও কেউ ক্ষুদার্ত থাকেনি!

আঃ আলীম- ষ্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
মদীনাতুখলীল,খলীল শহর, শহরে, পাঁচ হাজার, ক্ষুদার্ত থাকেনি

আপনি হয়তো ভাবছেন, এটি হয়তো বা কোন ধনী দেশ আমেরিকা, কুয়েত, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন বা চিনের কোন শহর হবে নিশ্চয়ই। ভুল ভাবছেন, আসলে এটি কোনো ধনী দেশ কিংবা ক্ষমতাধর দেশের শহর নয়। এটি হলো ফিলিস্তিনের ছোট একটি শহর। শহরটির নাম ‘মদীনাতুখলীল বা খলীল শহর’।

আর এই শহরেই রয়েছে একটি বিখ্যাত মসজিদ। পাচ হাজার বছর পুরনো এই মসজিদটি “মসজিদে ইব্রাহীম” নামে পরিচিত। নজর কাড়া সৌন্দয্য মন্ডিত, বিখ্যাত এই মসজিদ এর পাশেই আছে একটি রেষ্ট হাউস বা মুসাফিরখানা। এখানেই এই খাবার প্রতিদিন রান্না করা হয়। রাধূনিরা অতি যত্নের সাথে গমগুঁড়া ও গোশত মিশিয়ে এই শহরের ও দেশের জাতীয় খাবার তৈরি করেন। যা খেতে খুবই সুস্বাদু ও তৃপ্তি দায়ক।

আর এভাবেই পাঁচ হাজার বছর ধরে চলছে মুসলিম জাতির পিতা নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মেহমানদারি। বলা হয়ে থাকে, যে শহরে কেউ ক্ষুধার্ত থাকে না! প্রতিদিন দুপুরে ৫০০ থেকে ৩০০০ পরিবারের সদস্যরা পরিতৃপ্তির সাথে এই খাবার খেয়ে থাকেন। এই খাবার তৈরি ও পরিবেশনের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা যুগ যুগ ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তারা শহরের বিত্তবানদের সহায়তায় বছরের প্রতিদিনই এই কর্মসূচি চালু রেখেছেন। যা পাচ হাজার বছর ধরে এই পর্যন্ত নিয়মিত প্রজন্মের পর প্রজন্ম চালু আছে। এবং তা আল্লাহর রহমতে কেয়ামত পর্যন্ত চলবে বলেই মনে করছেন এই মহৎ কাজে সংশ্লিষ্ট মানুষ গুলো।

তারা দুনিয়ায় এটিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চান।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবী পরবর্তী সময়ে সুলতান কালূন সালেহী ১২৭৯ খৃ: সালে এই মুসাফির খানা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সিলসিলা চালু আছে নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর যামানা থেকেই। কারণ তিনি মেহমান ছাড়া খাবার খেতে বসতেন না। আর তার খাবারের সময় কোন না কোন মেহমান আসতেনই। মেহমানের সাথে খাবার খেতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন। তাকিয়ায়ে ইবরাহিমী নামে পরিচিত এই খাবার খাওয়ার জন্য দূর থেকেও মুসাফির সমবেত হয়ে থাকেন। এবং এই সব মুসাফিরদের রাতে থাকার ব্যবস্হা ও করতেন নবী হযরত ইবরাহিম (আঃ)। নবী ইবরাহিম (আঃ) এর মেহমানদারীকে স্বরনীয় ও সিলসিলা অব্যাহত রেখেছেন তার যোগ্য উত্তর সুরী গন। পরবর্তী সময়ে, আগত এই মুসাফির দের থাকার জন্য অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউস নির্মান করা হয়। সেই সাথে মসজিদে ইবরাহিমের বিস্তর সম্প্রসারন ও সংস্কারের জন্য, মুসাফির খানাও একটু দূরে সরিয়ে নেয়া হয়। এবং এটিও পুন নির্মান ও আধুনিকায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে খাবারের পরিমান বৃদ্ধি ও মেহমানদের সংখ্যা বেশী হওয়ার কারনে,খাবার পরিবেশন সহজিকরণ ও ভিড় এড়াতে আগ্রহী পরিবার গুলো কে পাঁচজন লোকের খাবার এক সাথে নেয়ার মত বড় পাত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হয়ে থাকে। নবী হযরত ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম এর মেহমানদারি পাঁচ হাজার বছর ধরে বংশানুক্রমে চলে আসছে, সুতরাং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি পরিবার যদি মেহমানদারির এই সুন্নাহ চালু রাখতে সচেষ্ট হন, তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম হয়তো তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

খলীল শহরের দানশীল ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এখানে কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে আমরা খুবই লজ্জিত হই। আল্লাহর নবী হযরত ইবরাহিম (আঃ) কখনো ক্ষুধার্ত মানুষকে রেখে নিজে খাবার খেতেন না। এবং এটি আমাদের আখেরী নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর একটি বড় সুন্নত, যা আমাদের কে কর্তব্য হিসাবে পালন করতে বলেছেন।সুতরাং আমরা যে কোন মুল্যে এটাকে অব্যাহত রাখবো।  ইনশআল্লাহ।

আমরা এই মেহমান দারীর সঠিক বন্টনের আপ্রান চেষ্টা করি, আল্লাহর রহমতে কখনো আমাদের কোন অসুবিধা হয়না।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com