Logo

ফেইসবুক মার্কেটিং বলতে আমরা কি বুঝি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
ফেইসবুক মার্কেটিং বলতে আমরা কি বুঝি

পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের নাম ফেসবুক। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর প্রাই প্রতিটা দেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক অনেক বেশী। ফেসবুকের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে। এটি আপনি নিজে বা কোন ফেসবুক মার্কেটারের মাধ্যমেও করতে পারেন।

সহজ অর্থে ফেসবুকে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তাকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে। যে কোন ধরণের বিজ্ঞাপন ই ফেসবুকে টাকার মাধ্যমে দেয়া যায়। এ ধরণের বিজ্ঞাপন সাধারণত আপনার ফেসবুক নিউজফিডে বিভিন্ন পন্যের স্পন্সরড পোষ্ট আসে এবং আপনার ফেসবুক এর ডান পাশে বিভিন্ন পন্যের ছবি বা অফার আসে আর এগুলকেই ফেসবুক বিজ্ঞাপন বলে।

ফেসবুক মার্কেটিং কেন করবেন ??

ফেসবুকের ইতিহাস এবং বর্তমান আমরা সবাই জানি। মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রথম যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরু করার পর ফেসবুকের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। ২০১৬ সালের জরিপ অনুস্বার ফেসবুকের মাসিক একটিভ ব্যবহার কারির সংখ্যা ১.৮৬ বিলিয়ন। প্রতিদিন ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা ১.১৫ বিলিয়ন। মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করে এমন ইউজারের সংখ্যা ১.৭৪ । ফেসবুকে প্রতিদিন ছবি আপলোড এর সংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন। ফেসবুকে প্রতি ভিজিটরের এভারেজ টাইম স্পেন্ড ২০ মিনিট। প্রতি মিনিটে ৫,১০,০০০ কমেন্টস, ২,৯৩,০০০ স্ট্যাটাস এবং ১,৩৬,০০০ ছবি আপলোড হয়ে থাকে। ফেসবুকে ১৬ মিলিয়ন লোকাল বিজনেস পেজ তৈরি করা হয়েছে। ৪২ % ব্যবসায়ী মনে করেন ফেসবুক তাদের বিজনেসের প্রধান হাতিয়ার। ১৮-২৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্য ৫০% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই ফেসবু ব্যবহার করে বা বলা যায় ফেসবুকে এসেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এক প্রতিবেদনে বলা হয় ফেসবুক ব্যবহার কারি প্রতি বছর ১৭% হারে বাড়ে এবং এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

একটু চিন্তা করুন ২০১৭ সালে ফেসবুকের একটিভ ব্যবহারকারী ১৮৬ কোটি সেখানে হটস এপ এর ব্যবহারকারী ৫০ কোটি, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৮ কোটি ৪০ লাখ সেখানে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং না করা মানেই তো আপনি বোকা। ভাবুন
এত পরিমান কাস্টমার আপনি কোথায় পাবেন বিজ্ঞাপনের জন্য। ফেসবুকের অন্য যোগাযোগের মাধ্যম ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবহারকারী ৬০ কোটি।

এখন আসুন এনালগ মার্কেটিং না করে ফেসবুকে মার্কেটিং করলে কি সুবধা পাবো তাই দেখি।

ব্যনার, সাইবোর্ড, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, পেপার, রেডিও, বা টিভি বিজ্ঞাপন থেকে ফেসবুক বিজ্ঞাপন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ – এতে কম খরচে অধিক ফল পাওয়া যায় । ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি সর্বচ্চ পর্যায়ের মার্কেটিং করতে পারবেন।ফেসবুক মার্কেটিং করলে আপনি আপনার মার্কেটিং ফলাফল তাৎক্ষনিক চেক করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আপনার রানিং বিজ্ঞাপন বন্ধ করে নতুন ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। ফেসবুকের মার্কেটিং করলে আপনি আপনার ফলাফল পর্যালোচনা করতে পারবেন। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন খরজ খুব ই কম।বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশেষ করে ফেসবুকের ব্যাপক প্রসারের কারণে প্রায় সব মানুষ ই একে অপরের সাথে যুক্ত তাই আপনি অতি সহজেই আপনার একটি বার্তা অন্যর নিকট পৌঁছে দিতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি ছোট , বড় কিংবা স্টার্টআপ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্যই অনলাইন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফলে সবার জন্যই প্রচারণা বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে আপনার আসার সবথেকে বড় কারণ হতে পারে কমসময়ে কম খরজে অধিক প্রচার সম্ভাবনা। আপনি একজন ছোট ব্যবসায়ী বা একটি বৃহৎ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী যাই হোন না কেন, গ্রাহক ধরে রাখার জন্য বা ব্র্যান্ডের প্রচার প্রচারণা বাড়ানোর জন্য এবং আপনার ব্যবসার বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য ফেসবুক হলো একটি মূল্যবান মার্কেটিং মাধ্যম যেখানে আপনি সব লেভেল থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছে আপনার বার্তা পাঠাতে পারবেন। কোন ব্রান্ড সৃষ্টির জন্য ফেসবুক মার্কেটিং এর বিকল্প নেই।

ফেসবুকে মার্কেটিং এর সুবিধাঃ

অনেক সহজে লক্ষ্যবস্তু গ্রাহক পাওয়া সম্ভব। আপনি যে কোন জায়গায় শহর দেশ বা লোকাল এরিয়া টার্গেট করে নিজের ব্যবসার বিজ্ঞাপন চালাতে পারবেন।

ফেইসবুক এ লক্ষ লক্ষ ইউজার রয়েছে তাই এখানে মার্কেটিং করে প্রচুর গ্রাহক পাওয়া সম্ভব। ম্যানুয়াল মার্কেটিং এর তুলনায় এ ধরনের ফেইসবুক পেইজ মার্কেটিং এ আপনার অনেক কম টাকা খরচ করতে হয়। নিজের একটি অনলাইন ব্র্যান্ড তৈরি করার জন্য ফেইসবুক মারকেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অধিক পেইজ লাইক এবং ফলোয়ার্স দের ফলে অধিক লোকেরা সংযুক্ত হয়ে থাকে ফলে এর মধ্যে অনেকে গ্রাহকে পরিণত হওয়ার সুযোগ থাকে।
ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com