Thursday , December 9 2021
মানিকগঞ্জের জমিদার বাড়ি

দৃষ্টিনন্দন মানিকগঞ্জের জমিদার বাড়ি

মানিকগঞ্জ, রাজধানী ঢাকার অদূরে অবস্থিত একটি জেলা। এখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত নানা উপকরণ রয়েছে।

এখানে রয়েছে বেশকিছূ জমিদার বাড়ি/প্রাসাদ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

  • বালিয়াটি প্রাসাদ, সাটুরিয়া।
  • তেওতা জমিদার বাড়ী, শিবালয়।

১। বালিয়াটি প্রাসাদ, সাটুরিয়া।

মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তির ইতিহাসে বালিয়াটির জমিদারদের অবদান উল্লেখ যোগ্য। হাজারো ঐতিহ্য বুকে ধরে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। জেলার সদর থেকে আনুমানিক ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত।

জানা যায়, মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। এই প্রাসাদের অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হয়েছিলো। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি যাদুঘর হিসেবে রয়েছে। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নিম্নবিত্ত সাহা পরিবার থেকেই পরবর্তীতে বালিয়াটি জমিদার বংশের উদ্ভব হয়েছিলো। তবে এখন দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেশি পরিচিত। প্রতিদিন শত শত মানুষের দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসে।

জমিদার বাড়ির সিংহ দরজায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙিনা। একই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বহুতল ভবন। এগুলোর পেছনে জমিদার অন্দরমহল এবং রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় পুকুর।

প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা সাতটি দালানের সমাবেশ। প্রতিটি দালানই ঊনবিংশ শতকে নির্মিত। জমিদার বাড়ির প্রবেশ দরজার দুপাশে রয়েছে দুটি তেজী সিংহের পাথরের মূর্তি। এরপরই নজরে আসবে প্রশস্ত আঙিনা। প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রাসাদের ২০০ কক্ষের প্রতিটি কক্ষেই রয়েছে প্রাচীন শিল্পের সুনিপুণ কারুকাজ।

যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ মানিকগঞ্জ থেকে সড়ক পথে বাসযোগে যাওয়া যায়্। মানিকগঞ্জ হতে দূরত্ব ১৮ কিঃমিঃ। বাসভাড়া ১৫/- টাকা।

২। তেওতা জামদার বাড়ি, শিবালয়।

দেশের পুরাকীর্তি স্থাপনার মধ্যে মানিকগঞ্জের তেওতা জমিদার বাড়ী ইতিহাস অন্যতম। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত এই তেওতা গ্রামটি। যমুনা নদীর কূলঘেঁষা সবুজ-শ্যামল গাছপালায় ঢাকা তেওতা গ্রামটিকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে জমিদার শ্যামশংকর রায়ের প্রতিষ্ঠিত নবরত্ন মঠটি।

এই জমিদার বাড়ীর সামনে একটা বড় দিঘি আছে। দিঘিটা এখন বাধাই করা। এই দীঘিতে গোসল করতে আসতো প্রমীলা দেবী। কবি নজরুল ইসলামকে তিনি কবিদা বলে ডাকতেন। একদা প্রমীলা যখন বাড়ির পুকুরে গোসল করাতে যেত, তখন তার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি বলে উঠেন-

“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়,

সেকি মোর অপরাধ”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেওতা জমিদার বাড়িটির বয়স ৩০০ বছর ছাড়িয়েছে। জেলার ইতিহাস থেকে জানা গেছে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের পিতৃহীন দরিদ্র এক কিশোর তার সততা আর চেষ্টায় তামাকের ব্যবসা করে বিপুল ধন সম্পদ অর্জন করেন। দরিদ্র পাচুসেন দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে হয়ে যান পঞ্চানন সেন। তারপর শিবালয়ের তেওতায় তিনি এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন।

তেওতা জমিদার বাড়িটি ৭.৩৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।

সম্পুর্ন বাড়ী ও তার আশেপাশের আনুসাঙ্গিক জিনিস দেখতে দেখতে অনেকটা সময় অজান্তে কেটে যাবে।

তেওতা এলাকা ও জমিদার বাড়িটি নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিধন্য একটি স্থান। এখানে নজরুলের বেশ কিছু স্মৃতি খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই বাড়িটিকে কিছুটা সংস্করন ও সংরক্ষণ করে এর হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *