Logo

এক চোখা ইতিহাস ও আমাদের পরাধীনতা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
এক চোখা ইতিহাস ও আমাদের পরাধীনতা

[এক]

একটা বিরাট দেশকে ভাগ ভাগ করে দেয়ার মাধ্যমে ইংরেজরা আমাদের যে বিরাট ক্ষতি করে গেছে, তা সম্ভবত আর কখনো পূরণ করা সম্ভব হবে না। আমি জানি, এগুলো বলার মানে, নিছক আস্ফালন। তবুও বলি। ইতিহাসটা সবাই জানুক।

আমি ৪৭ এর আগের ইতিহাস পড়ে অবাক হই। কীভাবে পারলো লোকগুলো এসব করতে! সামান্য ক্ষমতার লোভ এদেরকে অন্ধ করে দিয়েছিল। কেউ চায়নি যে, ভারত, পাকিস্তান নামে দুইটা আলাদা আলাদা দেশ হবে। সবাই চাচ্ছিলো ইংরেজদের থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু হঠাৎ কেন দেশ বিভাগের ডাক ওঠলো?

চতুর ইংরেজরা কখনোই চায়নি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ভারত এক নেতৃত্বে আবার গঠিত হোক। এটাকে তারা নিজেদের সাম্রাজ্যের মামুগিরি করার বিরুদ্ধে হুমকি স্বরূপ মনে করেছিলো।

অনেকেই বলে “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা”। আমিও অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই দাঙ্গার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল চতুর ইংরেজ প্রশাসন। যেন অখন্ড ভারত আর প্রতিষ্ঠা হতে না পারে‌। আর ওদের মামুগিরিও বন্ধ না হয়।

প্রথমে রামের জন্মভূমি টাইপ কিছু গাঁজাখুরি মার্কা ইতিহাস বানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে উস্কে দেয়া হয়। বেশ কিছু জায়গায় মূর্তিও ভাঙচুর করা হলো। এরপর দেশে বড় ধরনের অনেকগুলো দাঙ্গা হয়। এবং হিন্দুদের সেই দাঙ্গা মিছিল থেকেই মানুষ “পাকিস্তান” শব্দটি প্রথমবার শুনতে পারে। উল্লেখ্য, এই নামে কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি এর আগে কখনো কোনো মুসলিম করেনি।

শুরু হয় দাঙ্গা-মহাদাঙ্গা। অগণিত মানুষ এই দাঙ্গায় মারা যায়। বর্তমানে কিছু কানা ইতিহাস পড়ুয়া লোকজনের দেখা মিলে। যারা ইউরোপ-মেরিকায় বসে আমাদেরকে উপদেশ দেয়, আর যেন এরকম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা না হয়। ধর্মীয় ব্যাপার নিয়ে যেনো মানুষ বাড়াবাড়ি না করে… ইত্যাদি ইত্যাদি।

সুলতানি আমল, মুঘল আমলে হিন্দু মুসলিমরা পাশাপাশি থাকেনি? কই, তখনতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো কিছু ঘটেনি। তখন তো মানুষ নিজেদের ধর্মীয় ব্যাপারে আরো বেশি কঠোর ছিলো। তাহলে তারা কেন দাঙ্গা করে মানুষ মারল না?

কথায় আছে, ‘ঘরের মানুষ মারে বেশি।’ ইংরেজরা কখনোই আমাদের ক্ষতি করতে পারতো না; যদি না আমাদের মধ্যে কিছু গাদ্দার আর অসচেতন মানুষ না থাকতো।

লেখকের আরো লেখা পড়তে পারেন।

ভারতবর্ষে মুসলিম লীগের নাম গন্ধ ছিলো না। সবাই মুসলিমদের নেতৃত্ব বলতে “জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম”কেই চিনত। কিন্তু হঠাৎ এমন কিছু চমৎকার ঘটলো। যার দরুন জিন্না সাহেবের মুসলিম লীগ-ই হয়ে গেল মুসলিমদের নেতৃত্বদানকারী বড় প্লাটফর্ম । জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর সেই সময়ের সম্মানিত আমীর ছিলেন সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)। তিনি ভালো করেই বুঝতে পারছিলেন, দেশ বিভাগের পরিণাম আসলে কি হবে। কিন্তু ততদিনে মানুষের মগজ ধোলাই হয়ে গেছে। কেউ আর তাঁর কথায় পাত্তা দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।

মগজ ধোলাইটা হয়েছিল বিভিন্ন আধ্যাত্মিক আশ্রমে জীবন কাটানো পীর সাহেবদের মাধ্যমে। যাদের অন্যতম ছিলেন, মওলানা আশ্রাফ আলী থানভী(গুফিরা লাহু)। জীবনে অসংখ্য মানুষকে আল্লাহর পথ দেখনো এই মানুষটা এটা বুঝতে ভুল করেছেন যে, রাজনীতি নিয়ে তাঁর কথা বলা উচিত না।

আতিক.

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com