Logo

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো এক অসভ্য উলঙ্গ পথভ্রষ্ট উপজাতি

আব্দুল আলীম
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো এক অসভ্য উলঙ্গ পথভ্রষ্ট উপজাতি
ছবি- হিম্বা উপগোষ্ঠীর শিশুদের সিজদা দেওয়া শিখানো হচ্ছে

এটা আসলে সেই প্রাচীন কালের কিংবা দুই হাজার বছরের কোনো পুরনো সময়ের সেকেলে গল্প নয়। ঘটনাটা ২০২০ সালের শেষের দিকের ঘটনা।

আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ গুগলে ও ডিসকভারি চ্যানেলের অনুসন্ধানী মানুষের কল্যানে, অনেকেই জানি যে এখনো কিছু অসভ্য জাতি পৃথিবীতে তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে, সভ্যতাকে উপেক্ষা করেই বসবাস করছে।তাদের মাঝে এমন কিছু উপজাতি আছে যে তারা সভ্যতার কথা ভাবতে ও চায় না। শুধু তাই না এরা সভ্য কোন সমাজের সাথে মিশতেও পারেনা। কারন তাদের ও জাতি গত কিছু নিয়ম নীতি আছে। সেগুলো অনুসরণ করতে বাধ্য হওয়ার কারনে। আবার না মানলে মিলবে ভয়ংকর শাস্তি।

আবার কিছু কিছু উপজাতি আছে যে তারা সভ্য সমাজের পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে ও নিতে পারে না। তাই আজব এই দুনিয়ায় দেখতে মানুষ হলেও রয়েছে বিভিন্ন রকম পরিবেশ গত সমস্যা।আর এই কারনে মানুষ হয়ে ও সভ্য ও অসভ্য সমাজ নিয়ে আলাদা হয়েই বসবাস করতে হয়।

কিন্তু বর্তমানের এই পরিবর্তন শীল বিশ্বের নানান বৈচিত্র্যময় আকর্ষনের সাথে তাল মিলিয়ে একটি প্রাচীন অসভ্য আদি বাসি উপজাতিগোষ্ঠী তাদের পুরনো সেই নিয়ম নীতি ভেঙে দিয়ে শামিল হয়েছে ইসলামের শুশীতল পবিত্র পতাকার ছায়া তলে।

আজ জানাবো সেই গভীর জঙ্গলে থাকা উলঙ্গ সংস্কৃতির উপজাতির ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার ঘটনা।

আফ্রিকা অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র উপজাতির নাম হিম্বা উপজাতি। এই হিম্বা উপ জাতি গোষ্ঠীর প্রধান বসবাস নামিবিয়ার গভীর জঙ্গল, ও মরুময় অঞ্চলে। এরা সাধারনত স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের প্রবাহমান বর্তমান সভ্যতা থেকে পুরো পুরি বিচ্ছিন্ন একটি উপ জাতি। আপনি যদি তাদের অঞ্চলে যান, তাদের সাথে মিশেন, তাহলে আপনার মনে হবে আপনি কয়েক হাজার বছর আগের কোনো জায়গায় এসে পড়েছেন।

এই উপজাতির লোকেদের রয়েছে সম্পুর্ন আলাদা একটি সমাজ ব্যবস্হা। তারা যে সভ্যতার ছোঁয়া থেকে কতোটা বিচ্ছিন্ন সেটা বোঝার জন্য একটা উদাহরণই যথেষ্ট।আধুনিক সভ্যতার এই সময়ে এসেও তাদের দেহের অধিকাংশই নগ্ন থাকে। অনেকেই আবার সম্পূর্ণই উলঙ্গ থাকে।

এ ধরণের উপজাত নৃ গোষ্ঠীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ সীমিত ও অপর্যাপ্ত। অনেকটা অসম্ভবের মত ব্যাপার। কারন কোন সভ্যবসমাজের মানুষ এদের ধারে কাছে ও যাওয়ার চিন্তা করবে না।আর ভাষাগত সমস্যা তো আছেই। এবং এরা অনেক সময় সভ্য সমাজের মানুষ দেখলে হামলা পর্যন্ত করে বসে।তাই সবমিলিয়ে ব্যাপার অনেকটা কঠিন কাজ।

কিন্তু এই অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করেছেন, আফ্রিকা ভিত্তিক একটি ইসলামী দাওয়াহ সংগঠন ‘IERA’ । দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর হিম্বা উপজাতির মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে” IERA” এর পক্ষ থেকে হিম্বাদের একটি গ্রামে মহান আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের তাওহীদের বাণী, শান্তির বাণী প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ‘IERA’ এর পক্ষ থেকে মোঃ আব্দুর রহীম গ্রিন, মোঃ আদনান রশীদ সহ আরো বেশ কয়েকজন তাদের গ্রামে যান। গ্রামে গিয়ে দোভাষীর সাহায্যে তারা তাদেরকে ইসলামের মৌলিক বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেন।

প্রথমে ঘোর আপত্তি জানালে ও পরে অনেকটা শান্ত ভাবেই ইসলামের মর্যাদার কথাগুলো শোনেন। সেই বানী শোনার পর তাদের গোত্র প্রধান, তাদের সকলকে স্বাধীনতা দিয়ে দেয়- “এবং সকলের উদ্দেশ্যে বলেন,” তোমরা যদি বোঝো এবং বিশ্বাস করো আমাদের অতিথিরা যা বলছেন সেটা সত্য, তাহলে তা গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করো না”। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে এটাই আসল সত্য এবং মহা পবিত্র।

পরবর্তীতে দেখা যায়, গ্রামের সবাই, শিশু থেকে বৃদ্ধ এমনকি স্বয়ং গোত্র প্রধানকেও ইসলামের বাণী এতোটাই আকর্ষণ করে যে তারা সবাই সাথে সাথেই তা কবুল করে নেয়। বস্তুত তাদের ফিতরাত ছিলো স্বচ্ছ ও কলঙ্কহীন।

এভাবেই প্রত্যন্ত এক অঞ্চলের মানুষ যারা আজও কাদামাটি দিয়ে ধর বানায়, তাদের কুটিরে পৌঁছে গেলো আল্লাহর বাণীর পবিত্র মশাল। পরবর্তীতে সেই দাওয়া সংগঠন এখন পর্যন্ত সেখানে ক্যাম্প করে নামাজ শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা সহ সকল ইসলামী কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছেন।

রাসূল (সা) আমাদের জানিয়ে গেছেন, কোনো মাটির ঘরও ইসলামের বাণী পৌঁছানো থেকে বঞ্চিত হবে না। হতে পারে এটা সেটারই একটা ধাপ। যুগে এভাবেই ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যাবে অন্ধকার, ও অসভ্য উপজাতিদের কাছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Theme Created By Tarunkantho.Com